বিশেষ প্রতিনিধি, বিশেষ প্রতিনিধি।।
মিজোরামে আশ্রয় নেয়া মিয়ানমার ও বাংলাদেশ থেকে আসা বাস্তুচ্যুতদের বায়োমেট্রিক রেকর্ড করা হবে। আগামী জুলাইয়ের শেষ নাগাদ এ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে বলে এক বিবৃতিতে একথা জানানো হয়েছে। ভারতীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই মহড়ার জন্য রাজ্যজুড়ে অফিসারদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। জুলাইয়ের শেষের দিকে এই কর্মকাণ্ড শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহের জন্য অনলাইনে 'ফরেনার্স আইডেন্টিফিকেশন পোর্টাল'-এর মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন হবে। তবে, ইন্টারনেট সংযোগহীন প্রত্যন্ত এলাকায় বিকল্পভাবে অফলাইনেও তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা রাখা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার (১৮ জুলাই) লুংলেইয়ে 'ফরেনার্স আইডেন্টিফিকেশন পোর্টাল অ্যান্ড বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্ট'-বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। লুংলেই জেলা পর্যায়ের মিয়ানমার ও বাংলাদেশ শরণার্থী সংক্রান্ত কমিটি এ কর্মশালার আয়োজন করে।
বিবৃতিতে জানানো হয়, বাস্তুচ্যুতদের সঠিকভাবে শনাক্ত ও নিবন্ধনের জন্য কর্মকর্তাদের সচেতন ও দক্ষ করে তুলতেই এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। লুংলেইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে বেইহমোতাওসা কর্মকর্তাদের এ পর্যন্ত গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করেন, যার মধ্যে রয়েছে ১০টি বায়োমেট্রিক তালিকাভুক্তি দল গঠন এবং স্বরাষ্ট্র বিভাগের কাছ থেকে সরঞ্জাম সংগ্রহ। এই মাসেই রামথার ক্যাম্প থেকে শুরু করে জেলার আরও আটটি ক্যাম্পে তালিকাভুক্তি অভিযান শুরু হবে বলে জানা গেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইভেন্ট চলাকালীন ব্যবহারিক এবং ইন্টারেক্টিভ সেশনের মাধ্যমে মোট ২৭ জন দলের সদস্যকে মাস্টার ট্রেইনাররা প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে অন্যান্য জেলাগুলিতেও একই ধরণের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র বিভাগের মতে, বর্তমানে মিজোরামের ১১টি জেলায় ৩২,০০০ এরও বেশি মিয়ানমারের নাগরিক অবস্থান করছেন। তবে এই সংখ্যা প্রতিদিনই পরিবর্তন হচ্ছে, কারণ অনেকেই মাঝে মাঝে মিয়ানমারে ফিরে গিয়ে আবার মিজোরামে প্রবেশ করেন।
স্বরাষ্ট্র বিভাগ আরও জানিয়েছে যে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে ২,৩৭১ জন বাংলাদেশি নাগরিক মিজোরামে অবস্থান করছেন। এছাড়াও, জাতিগত সহিংসতার কারণে মণিপুর থেকে বাস্তুচ্যুত ৭,০০০ এরও বেশি জো জাতির মানুষ মিজোরামে আশ্রয় নিয়েছে।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রতিবেশী দেশটিতে সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারের নাগরিকরা, যাদের বেশিরভাগই চিন রাজ্যের বাসিন্দা, মিজোরামে পালিয়ে যান। অন্যদিকে ২০২২ সালে একটি জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের পর বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে আশ্রয়প্রার্থীরা ভারতের এই রাজ্যে আসেন।মিজোদের সঙ্গে মিয়ানমারের চিন, বাংলাদেশের বম এবং মণিপুরের কুকি-জো জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ও জাতিগত সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ, যা এই আশ্রয়প্রাপ্তদের প্রতি স্থানীয়দের সহানুভূতির একটি বড় কারণ বলেও মনে করা হয়।
সূত্র : দ্য হিন্দু